Friday, March 20, 2015

ভূমিকা

আমার গুরুদেব শ্রীমৎ নরেশ ব্রহ্মচারীজীর কথা লিখতে আরম্ভ করার প্রাক্কালে মনে পড়ছে ১৯৭৪ সালে একদিন আমার গুরুদেব তার ব্যবহৃত একটি কলম আমার হাতে দিয়ে বললেন, "মাঞ্জুমায়ী, যদি কোনদিন কিছু লেখ আমার সম্বন্ধে, তোমার গুরুকে বড় করার জন্য বাড়িয়ে কিছু লিখোনা, যা সত্য তাই লিখবে।" আরও একদিন বললেন, "ভুল লেখা ছাপতে নেই।" এই বইটিতে হে সব ঘটনার কথা উল্লেখ আছে সবই আমার দেখা ঘটনা। কিছু কিছু ঘটনা তার নিজ মুখনিসৃত। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনচক্র আবর্তিত হয়েছে তাকেই কেন্দ্র করে। শ্রীশ্রীঠাকুরকে জড়িয়ে দেখা যে অভিজ্ঞতাগুলি আমার স্মৃতিপটে আছে তার কিছু কিছু সাধ্যমত বিবরণ দিতে চেষ্টা করেছি। তাই আমার এই লেখা স্মৃতিকথা মাত্র। তবে ঘটনাগুলির দিন, খন, সাল ইত্যাদি লিখে না রাখার জন্য আজ আর কিছুই মনে নেই। তাই অনেক ক্ষেত্রে ঠিকমত রক্ষা করা যায়ে নি।

১৯৭৪ সালে শ্রী গুরুদেবের দেহরাক্ষার পর কিছুদিন যাবৎ মন অত্যন্ত বিষন্নতায়ে ভরা ছিল, দিনরাত অস্থিরতা, মানসিক শান্তি বলতে কিছুই ছিল না। কিছুদিন পর আমি শ্রীমৎ যোগেশ ব্রহ্মচারীজীর নিকট গিয়েছিলাম। সঙ্গে ছিল আরও তিনজন। যোগেশ জ্যাঠামশাইকে প্রণাম করে তার সামনে বসতেই তিনি প্রশ্ন করলেন, "তুমি তার জন্য (আমার গুরুদেবের) কিছু স্মৃতিরক্ষা করতে পারলে না? কি করছ তার স্মৃতিরক্ষার জন্য? তিনি তোমায় কত ভালবাসতেন। তোমাকে তার নিজের মনের মত করে তৈরী করতে চেয়েছিলেন। তোমার স্বামী অরুণ তো তার হাতের লাঠি ছিল। তোমরা তার কথা মনে রাখবে তো? এর মধ্যেই ভুলে গেলে? তিনি তোমায়  এখন ও খুব ভালবাসেন। তার স্মৃতি তোমায় রক্ষা করতেই হবে। চেষ্টা কর খুব। আমি দেখতে চাই তোমার চেষ্টা এবং তার প্রতি তোমার কর্ত্তব্য। তুমি অবিলম্বে চেষ্টা কর, আমি তোমার সহায়ে।"

শ্রী শ্রী যোগেশ ব্রহ্মচারীজীরএই আদেশের কথা মাথায়ে নিয়ে আমি আমার এই লেখায়ে ব্রতী হয়েছি।

নিবেদিকা -
মঞ্জুলা সিংহ

পৌষ সংক্রান্তি - ১৪০০ সাল